ক বি অ জি ত বা ই রী


অজিত বাইরী 

সির্জন নদীর তীরবর্তী গ্রাম হুগলির কনকপুরে আমার জন্ম ১৯৪৮ সালের ৮ই নভেম্বর। বাল্যে মাতৃবিয়োগ। দিদিমার স্নেহচ্ছায়ায় প্রতিপালিত। 

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে সাম্মানিক স্নাতক। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দপ্তর থেকে  উপ-প্রকল্প অধিকর্তার পদে অবসর গ্রহণ ২০০৮ সালে। 

প্রকাশিত গ্রন্থ ৪০ টি। কাব্যগ্রন্থ এবং সম্পাদিত কাব্যসংকলন ৩৪ টি। গদ্যগ্রন্থ ৬টি। ভূপর্যটক রামনাথ বিশ্বাস স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ( মুম্বাই ), বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা।

উল্লেখ্য কাব্যগ্রন্থ: শ্রেষ্ঠ কবিতা, স্বনির্বাচিত কবিতা, আমার আবৃত্তির কবিতা, ভালোবাসার মুখ ( অণু-কবিতার সংকলন), শ্রুতিসন্ধ্যার নক্ষত্র, আগুনের চাদর, বিদায় কোভালাম বিদায় সূর্যাস্ত, প্রিজনভ্যান এবং কালপুরুষ, বিষণ্ণ অর্কিড এবং ভায়োলিন।


দুটি কবিতায়
কবি অজিত বাইরী


আজ, এই বেলা শেষে 


আজ, এই বেলা শেষে, মনে পড়ছে তোমাকে;

মনে পড়ছে সেই দীর্ঘ  বারান্দা-----

কামিনী ফুলের গন্ধ-মাখা বিভোল সন্ধ্যাগুলিকে

হারমোনিয়ামের রিড টিপে সুরের মায়াজাল

বিছিয়ে দিতে গানে গানে ।

সুরের মূর্ছনায় কতক্ষণ যে নিমগ্ন থাকতাম!

গান থামিয়ে উঠে গেলে টেরও পেতাম না।


আজ, শেষ বেলা অতীতের দীর্ঘ  সরণি মনে পড়ে:

আমার দিনগুলি রাতগুলি ক্রমেই ভারি হয়ে নামে

বুকের উপর, অনির্দেশ্য অন্ধকারে তাকিয়ে থাকি,

এই মহাকাশ, এই অযুত নক্ষত্রবীথির মাঝে কোথাও কি নেই তুমি? 

মধ্যযাম গড়িয়ে যায়; প্রহরে প্রহরে খেচরের কলকাকলি ভেসে আসে। অর্থ নেই, 

কোন কিছুর অর্থ নেই, এ জগৎ তবে মিথ্যা?

উদ্গত আবেগে চোখ ভেসে যায় চোখের জলে।


তুমি জানো না 


মেঘলা দিনে কত কিছুই মনে পড়ে;

সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে তোমাকে ।

ভেবেছিলাম, স্মৃতির আয়ু বড়জোর দু'চার বছর;

কে জানতো , যা ভুলতে চেষ্টা করি, তাই

বুকে বিঁধে থাকে অক্ষয় তিরের মতো!

হয়তো তুমি এসব নিয়ে এমন করে ভাবো না;

সবকিছু তুচ্ছ ভেবে ভুলতে পারো অনায়াসেই।


রাত গভীর হয়, শেষ রাতের দিকে ঢলে পড়ে

সব তারা, ঘুম আসে না, অনিদ্রার প্রহর

ঘোষণা করে রাতপাখির ডাক; জানলার কাছে

উঠে দাঁড়াই,আঙুলের ফাঁকে পুড়ে যায় সিগারেট ।

শুধু  কি সিগারেট পোড়ে? পোড়ে একটা জীবন;

তুমি এসবের কিছুই জানো না।

Comments

Popular posts from this blog

ক বি ফ টি ক চৌ ধু রী

ক বি সু জি ত রে জ

ক বি প্রা ণ জি ব সা ক