ক বি-অ নু বা দ ক মৌ লী না থ গো স্মা মী
মৌলীনাথ গোস্বামী
জন্ম:- ২৫-এ বৈশাখ, ১৯৭০। আজন্ম বসবাস আসানসোলে। স্কুলজীবন কেটেছে আইরিশ মিশনারিদের মাঝে। ম্যানেজমেন্ট নিয়ে স্নাতকোত্তর। বর্তমানে, রাজ্য সরকারের আধিকারিক।দীর্ঘ সময় ধরে কবিতা ও গল্প, উপন্যাস এবং অনুবাদের চর্চা করে চলেছেন। বিশ্বাস করেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি বস্তু নিয়ে কবিতা রচনা করা সম্ভব। তাঁর লেখায় বারবার উঠে এসেছে প্রেম, বিচ্ছেদ, মানুষের সামাজিক অবস্থান এবং গভীর মৃত্যু-চেতনা। একাধিক পত্র-পত্রিকায়, তাঁর কবিতা, গল্প নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ- দয়াল- প্রকাশকাল, বইমেলা, ২০২০, প্রতিভাস প্রকাশনা। দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ- "কুয়াশার টুকরোরা"- প্রকাশকাল, বইমেলা, ২০২১, মিসিসিপির মেঘ প্রকাশনা। ২০২১-এই কাশ্মীরের প্রকাশনা সংস্থা থেকে, মৌলীনাথের করা ইংরাজি অনুবাদে, কবি ঝিলম ত্রিবেদীর প্রথম ইংরাজি অনূদিত কবিতার বই--- "MEMOIR OF A GIRL" প্রকাশিত হয়েছে।প্রথম গল্প সংকলন--- “পরানবিলের মাঠ” - প্রকাশকাল, বইমেলা, ২০২২, পরম্পরা প্রকাশনা।ভারত ভবন, ভোপাল আয়োজিত "বহুভাষী লেখক সমাবেশ"-এ স্বরচিত বাংলা গল্প পাঠের জন্য আমন্ত্রিত, ফেব্রুয়ারি ২০২০।
হিন্দি ভাষার বিশিষ্ট কবি অনামিকা-র কবিতার অনুবাদে কবি-অনুবাদক মৌলীনাথ গোস্বামী
অনামিকা - বর্তমান সময়ের অগ্রণী হিন্দি কবি, ঔপন্যাসিক, সমাজসেবী। এবং হয়ত সর্বাধিক পঠিত। জন্ম ১৯৬১। মুজফ্ফরপুর। মূলত লেখেন হিন্দিতে। আলোচনামূলক লেখা লেখেন ইংরেজি ভাষায়। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - টোকরি মেঁ দিগন্ত, অনুষ্টুপ, ডুব-ধান, খুরদারী হাথেলিয়াঁ, পানি কো সব ইয়াদ থা, প্রভৃতি। এছাড়াও পাঁচটি উপন্যাস লিখেছেন এখনো পর্যন্ত। ২০১৪ সালে, 'টোকরি মেঁ দিগন্ত - থেরি গাথা' কাব্যগ্রন্থের জন্য হিন্দি ভাষায় সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত। আকাদেমির ৬৫ বছরের ইতিহাসে অনামিকাই একমাত্র মহিলা মহিলা কবি যিনি এই সম্মান পেয়েছেন। এই পুরস্কার ব্যতীত আরও অনেক পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন এই কবি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইংরেজি ভাষায় অধ্যাপনাও করেন। ভারতীয় সমাজ এবং জনজীবনের প্রতিচ্ছবি তাঁর কবিতায় স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে।
কবি অনামিকা-র কবিতা•••
তল্লাশি
"হ্যান্ডস্ আপ!" --- বলল সে
প্রতিটি অঙ্গ এ-ফোঁড় ও-ফোঁড় করে
তল্লাশি নিল সে আমার
আমায় তল্লাশ করে কী প্রাপ্তি হল তার?
সিগারেটের কাগজের ভেতর ধরে রাখা
খানিক স্বপ্ন আর চাঁদ
দেশলাই বাক্স ভরা সামান্য আশা
আর, একখানি অসমাপ্ত চিঠি
যা সে পাঠোদ্ধার করতে পারেনি
কারণ, সেই সিন্ধু সভ্যতার সময়
কোনও এক দুর্ভেদ্য লিপিতে
আমার ধরিত্রীকে চিঠিতে লিখেছিলাম আমি---
"হে ধরিত্রী, কোথাও চলো ধরিত্রী
কলুর বলদের মতন আমরা সকলে কতকাল ধরে
ঘুরে যাব বৃত্তাকারে?
অগ্নিবাণ হয়ে
এসো আজ তির্যক পা ফেলি
এই গ্রহপথ থেকে দূরে..."
চিঠিখানা দুমড়ে
সে আমাকে নিক্ষেপ করল কাল-কুঠুরিতে!
সেই থেকে নিরন্তর আমি
আমার কলম দিয়ে
কাল-কুঠুরিতে খুঁড়ে চলেছি সুড়ঙ্গ!
কান পেতে শোনো---
কী বেজে চলেছে ধরিত্রীর বুকে!
কেউ কি শুয়ে আছে অন্তরীণ?
আর দূরে - সুড়ঙ্গের ওইপারে - সেখানে
দেখা না দেখায় দৃশ্যমান
এক সূক্ষ্ম আলোক
আর অনর্গল প্রশস্ত ঘাসের প্রান্তর!
অদ্ভুত আনন্দমেদুর শীতল শিহরণ!
হতে পারে কাল রাতে
শিশিরে সিক্ত ঘাসের ওপর দিয়ে
দুরন্ত শিশুর কচি পায়ে
এই পথ ধরে কোন লোকগীতি হেঁটে গেছে...
এখন, শিশিরের ঠোঁটের ওপর
শুধু এক কম্পমান ছায়া রয়ে গেছে!
সৃষ্টির প্রথম অনুভব, চেয়ে দেখো
টপটপ - টপটপ -
কেমন কেমন করে ঝরে ঝরে পড়ে!
মহল্লার সব লৌহ-নারীদের প্রতি, এক ছোট্ট ধোপানি (চড়াই)
(গুরু রজক, বস্ত্র শিষ্য,সাবান পরাৎপর)
পৃথিবীর তামাম দোমড়ানো মোচড়ানো স্বপ্নের ওপর, দেখো---
কেমন লাল, গরম ইস্তিরি
অবিরাম ঘষে চলেছে সে!
প্রথম যেদিন এ শহরে এসেছিল
মনে হয়েছিল, এমন এক ভাষার সন্ধান করছে সে
যা দিয়ে পৃথিবীর সব কুঞ্চন মসৃণ করে দেবে!
ঠেলার ওপর লোহার ইস্তিরি চাপিয়ে
চুপচাপ
সারা মহল্লা ঘুরে বেড়াত সে
চারটের সময় চলে আসত
যখন সূর্য
হাত বেঁধে
মাথা এলিয়ে দিত
তার জঙ্গম ঘূর্ণায়মান কেদারায়
আর রৌদ্রকে
কোনও কিশোরীর লম্বা বিনুনির গায়ে
লেগে থাকা ছোট্ট কুণ্ডলের মতন মনে হতো!
অনেক বছর ধরে
আমাদের ভাষার ধ্বংসস্তূপের ভেতরে
খুঁজে, নিজের উপযোগী কোনও শব্দই পায়নি সে
দীর্ঘ সময় ধরে চুপ করে ভেবেছিল
হয়ত-বা মনে হয়েছিল
ইস্তিরির এই আধ-জ্বলা কয়লাই
একমাত্র কাজের শব্দ ওর!
নীল কালিতে ডুবিয়ে এই দিয়েই সংখ্যা বসাত সে
কাপড়ের গায়ে---
ওর ভাষায় লবণের স্বাদ এনে দিয়েছিল ফিটকিরি
মুলতানি মাটি, সাবানের ডেলা থেকে
উজ্জ্বলতা আর সুগন্ধ সংহৃত ক’রে
কাঠিন্য আহরিত ক'রে পাটা থেকে
কাপড় শুকানোর দড়ি থেকে
ধার আর বিস্তৃতি নিয়ে
সে গড়েছিল নিজস্ব ভাষা এক!
দেখো
কেমন
যত্ন আর অধ্যাবসায় নিয়ে
পৃথিবীর সব দাগ ময়লা ধুয়ে চলেছে সে
ওর ঠেলার ওপর পড়ে থাকা
কাপড়ের ওই গোল গাঁঠরিই যেন
এক আস্ত পৃথিবী!

.jpeg)
Comments
Post a Comment