ক বি ম ণি দী পা ন ন্দী বি শ্বা স
মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস
শৈশব থেকেই পিতৃ-মাতৃ শিক্ষায় লেখা, আঁকা, সংগীত, বিশেষত নাটকের হাত ধরে জীবন। আশির দশক থেকে পুরোপুরি সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প অঙ্গনে প্রবেশ। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শ্রেষ্ঠ স্কুল সুনীতি একাডেমীর প্রধান শিক্ষিকা। 'শিক্ষারত্ন' সম্মান পান ২০১৭ সালে। এছাড়াও সাহিত্য, সংগীত, নাটকে বহু পুরস্কার পেয়েছেন। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, অনুবাদ মিলে পঁচিশটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনী থেকে। চা-বনবস্তি-জনজাতির ভাষায় অনুবাদের কাজ করছেন। রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন নৃত্যনাট্য তাঁর পরিচালনায় সাদরী ভাষায় মঞ্চায়নও হয়েছে। শ্রদ্ধেয় নবনীতা দেবসেন তাঁকে ভূমি কন্যা সম্মান দেন ২০১৬-১৭য়। কাজ করে যাওয়া আর ভাল বই পড়া জীবনের মূল লক্ষ্য।
দুটি কবিতায়
কবি মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস
সে চলে যাচ্ছে...
ঐ নরম সরম মানুষটার শিল্পীত মুখ কে যেন তৈরি
করেছিল, ঐ নরম শব্দগুলো দু হাতে তুলে নিতে
নিতে সব কেমন নেমে আসছে স্বপ্নের মতই...
এখন মাথার ভিতর ঘোর লাগা জল, সব ভুলে
অনন্ত যাত্রায়।... সেই পাখিটা উড়ছেই ঐ মেঘের
ভিতর। কোমায় চলে যাওয়া মানে কি ! তুমি তো
ঘুমিয়ে আছ অনন্ত থেকে কোন বাইরের আকাশ
বৃষ্টি ছুঁয়ে জলদের হাত ধরে বিরহী মেঘের দিকেই
কি বলব তোমাকে, মানুষ কবি মা না সব মিলে
পূর্ণ মানুষ আর শুভ সংবাদ নিয়ে আসা
স্বপ্ন কথার কেউ... এত যে ভাবনা তোমার
সব পড়ে থাকে, পড়েই থাকে সে বিস্ময় যত
উদ্বেগ যত মুক্তি এখন ঐ পাখির মতন সে সব
মেঘ পাহাড়ে দুরন্ত সব বৃষ্টি ছেড়ে রোদের কথায়...
কতগুলো দিন রথযাত্রার মত
গোপনে কবিতা ছাড়ান লেখা হলে মনে মনে
রুটিনের পাশে দেগে দেওয়া হ'ত 'সম্ভব নয়'
আজন্ম চিঠির ছত্রে ছত্রে হেঁটে যেত প্রেম
ঠিকানা বা ঠিকানা হীন। খাম বন্দী অথবা
কাগজের নৌকোর মত... লুকিয়ে রাখা
টুকরোগুলো চৌবাচ্চার জলে ডুবে ছড়িয়ে
শেওলায় ঠেকে আছে, কত যুগের ধুলো
কাদায় ফসিল হয়ে নিভে গেছে আলো
ভাঙা সিমেন্টের ধারে পোকাদের অবাধ
যাতায়াত...
নদীতে জল তরঙ্গ বুকের ভিতর পাক খায়
হাত ধরে হাঁটার দিন পেরিয়ে যেতে যেতে
কিছুক্ষণ বিশ্রামে আছি... তারপর হরি ওঁম্


Comments
Post a Comment